" " " "

আকর্ষনীয় বদলি জনিত বিদায় বক্তব্য দেখে নিন

আসসালামু আলাইকুম, বিভিন্ন সময় অনেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে চায় কিন্তু কোথায় কি বলবে সেটা বোঝেনা। এই কারণে উদাহরণ ডটকম এর আজকের পোস্টে আমরা বদলি জনিত বিদায় বক্তব্য শেয়ার করব ।

বক্তব্য দিতে অনেক অভিজ্ঞতা দরকার । আর এটি অনেক মহৎ একটি স্কিল। এই অভিজ্ঞতা যাদের আছে মানুষ তাদের অনেক বেশি পছন্দ করে।

আমরা যে অফিসে কাজ করি সেখানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মকর্তা বিদায় নেয়। আর এই বিদায় এর সময় একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে বিভিন্ন স্টাফ গন বদলি জনিত বিদায় বক্তব্য দিয়ে থাকে ।

তো সেখানে আপনাকেও বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিতে হতে পারে। এ কারণে অবশ্যই আজকের এই বদলি জনিত বিদায় বক্তব্য পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়বেন।

বদলি জনিত বিদায় বক্তব্য

যারা বক্তব্য দিতে অনেক বেশি অভিজ্ঞ তাদের এই ধরনের কোন নমুনা প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যদি আপনি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে চাইলে নিজের মত বক্তব্য দিতে পারেন।

তবে আজকের এই বদলি জনিত বিদায় বক্তব্য দেওয়ার নমুনাটি আপনি দেখে নিয়ে সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন।

বলে রাখা ভালো একজন মানুষ কিভাবে বক্তব্য দিবে সেটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। বিভিন্ন সময় আপনাকে হঠাৎ কোন বক্তব্য দিতে হতে পারে তখন সেটা আপনাকে নিজেকেই বানিয়ে নিতে হবে।

তো যাই হোক আমরা এখানে যে বদলি জনিত বিদায় বক্তব্যটি শেয়ার করব সেটা আপনি চাইলে পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করে আপনার নিজের মত করে সাজিয়ে আবার উপস্থাপন করতে পারবেন।

বদলি জনিত বিদায় বক্তব্য নমুনা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম , আজকের এই বিদায় অনুষ্ঠানে এখানে উপস্থিত আছেন কোম্পানির সিনিয়র এমডি সাহেব ম্যানেজার সাহেব । আরোও উপস্থিত আছেন কোম্পানির সিনিয়র জুনিয়র কর্মচারীবৃন্দ। উপস্থিত আমার ছোট বড় সকলকে জানাই আন্তরিক সালাম আসসালামু আলাইকুম ।

অন্যান্য ধর্মালম্বি ভাই ও বোনদের প্রতি আমার শুভেচ্ছা। যাকে সৃষ্টি না করলে এই সৃষ্টি জগতের কিছুই সৃষ্টি হতো না সেই নবীর উপর সকলে দরুদ পড়ি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।

উপস্থিত সকলেই অবগত আছেন যে আমাদের কোম্পানির একজন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম এর বদলি হওয়া উপলক্ষে আজকের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

যদিও কোথাও থেকে বিদায় নিতে ইচ্ছা হয় না, কিন্তু পরিস্থিতির শিকারে সবাইকে একদিন না একদিন বিদায় নিতে হয়। দোয়া রাখি রেজাউল করিম ভাইয়ের নতুন গন্তব্যে যেন সে নিজের জীবনকে আরো সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিতে পারে। এই বিদায় এর হাত ধরে যেন তার নতুন সাফল্যের জীবনের সূচনা ঘটে।

আপনারা সকলে অবগত আছেন কোন সরকারি চাকরি করতে হলে সব স্টাফ এক জায়গায় কাজ করা যায় না। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের সিনিয়র সাহেবের আদেশে বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন সময়ে আলাদা জায়গায় বদলি করে দেওয়া হয়। এই কারণে তাকেও আজকে আমাদের এখান থেকে বিদায় নিয়ে বদলি নিতে হচ্ছে।

তবে আপনারা জানেন যে মোহাম্মদ রেজাউল করিম ভাই যতদিন আমাদের ডিপার্টমেন্টে কাজ করেছে তিনি সততার সঙ্গে তার কাজগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছেন।

রেজাউল করিম ভাইয়ের সম্পর্কে নতুন করে আর কিছু বলার নেই। আপনারা সবাই জানেন এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পিছনে তার কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

যখন ২০২০ সালে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে পুরো পৃথিবীর কাজকর্ম থেমে যায় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় তখন ও ভাই প্রতিষ্ঠানের সকল যাবতীয় কাজ কর্ম গুলো চালিয়ে গেছেন।

তিনি প্রতিটা সময় এমন কাজ করতে চেয়েছেন যেটা করলে আমাদের প্রতিষ্ঠানের আরো ভালো হবে। করোনা ভাইরাসের সময়ে অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত অফিসে আসেনি। কিন্তু তিনি কখনোই অফিস মিস করেনি তার কাজগুলো সব সময় সঠিকভাবে তিনি করে গেছেন।

এই সকল মহৎ গুণ এবং বৈশিষ্ট্য গুলো শুধুমাত্র রেজাউল করিম ভাই এর মধ্যেই আমরা দেখেছি । আমি দোয়া করি তিনি নতুন যেখানে বদলি হয়ে যাচ্ছেন সেখানেও তার কাজকর্মগুলো সঠিকভাবে পালন করবেন এবং নিজেকে আরো অনেক উন্নত করবেন।

অনেক কর্মচারী আছে যারা নতুন কোন কর্মচারী আসলে তাকে বিভিন্ন কাজের আদেশ করে থাকে। কিন্তু রেজাউল করিম ভাই এরকম এর একদম বিপরীত মানুষ। নতুন কেউ আসলে তিনি তাকে বিভিন্ন কাজ শিখিয়ে দেয় এবং কোন কাজ না পারলে সাহায্য করে।

এমনকি আমি যখন নতুন নতুন এই অফিসে জয়েন করি তখন তিনিও আমাকে অসংখ্য কাজে সাহায্য করেছেন। আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করে কাজগুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং সব সময় বিপদের সময় পাশে থেকেছেন।

শুধুমাত্র অফিসের কাজে নয় এই মানুষটা আমার পরিবারিক সমস্যারও অনেক অনেক সমাধান দিয়েছেন । কোন সমস্যা হলে তার কাছে বললে তিনি একটা না একটা সমাধান বের করে দিতেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং ব্যক্তিগতভাবে যে সমস্ত অবদান রেখেছেন সেগুলো কখনোই ভুলার নয়।

তিনি একজন অত্যন্ত সৎ মানুষ। আমি একবার পারিবারিক একটি সমস্যার মধ্যে পড়েছিলাম এবং কিছু টাকার প্রয়োজন ছিল। অনেকের কাছে চেয়েও আমি টাকা পায়নি কিন্তু যখন আমি ভাইকে বলেছি তিনি সাথে সাথে আমাকে সাহায্য করেছেন আর্থিকভাবে।

তাকে সেই টাকাটি ফেরত দিতে বেশ কিছুদিন দেরি হওয়া সত্ত্বেও তিনি আমাকে কোন কথা বলেননি । আমি সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম যে তিনি কত বড় একজন সৎ এবং ভালো মানুষ।

শুধুমাত্র সৎ ব্যক্তি নন তিনি ছিলেন একজন সত্যবাদী এবং ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত একজন মহৎ ব্যক্তি।। যখনই তিনি অফিসে অবসর সময় পেতেন তখনই আমাদের সামনে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন।

অফিসের অনেকেই ছিল যারা প্রথমে তার এই কথাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিত না এবং বিরক্ত বোধ করত। তারপরও তিনি একাধারে আলোচনা করা চালিয়ে গেছেন এবং একসময় আমরা সবাই তার আলোচনা গুলো পছন্দ করতে শুরু করি।

আর এই কারণে আমরা তার ধর্মীয় আলোচনাগুলো শুনার মাধ্যমে এখন প্রায় সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি এবং ইসলামের অন্যান্য বিধি বিধানগুলো মেনে চলার চেষ্টা করি।

আমি বলতে পারি যে আমাদের অফিসের বেশিরভাগ ব্যক্তি তার আলোচনাগুলো শুনে ইসলামের পথে ফিরে এসেছে এবং তারা অবশ্যই তাকে ধন্যবাদ দিতে চাইবে।

অফিসের এতজন যে আমরা আল্লাহর পথে ফিরে এসেছি এর কৃতিত্ব মহান আল্লাহ তাআলার পরে একমাত্র আপনার। এছাড়াও আপনি অফিসের স্টাফ এবং অফিসের জন্য অগণিত ভাল কাজ করেছেন।

আপনার এই সকল ভালোবাসা স্নেহ মমতা কখনোই ভোলার নয়। আপনাকে মন থেকে একবার বিদায় দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়।

যদিও আমার মন চাচ্ছে না আপনাকে বিদায় দিতে কিন্তু যেহেতু পরিস্থিতি এরকম তাই আপনাকে বিদায় দিতেই হচ্ছে । কিন্তু আপনি চলে গেলেও সর্বক্ষণ আপনি আমাদের মাঝেই থাকবেন আপনার কাজগুলোর মাধ্যমে।

আমরা আপনার ছোট, হয়তো না বুঝে অনেক ভুল কাজ করেছি সেগুলোর জন্য সকলের পক্ষ থেকে আমি আপনার কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। এছাড়া যদি আপনার মনে কখনো ভুলবশত কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে সেটাও আপনি নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।

আপনার নতুন গন্তব্যের জন্য শুভকামনা আপনি যেখানেই যাবেন অবশ্যই ভালো থাকবেন। শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আপনাকে বিদায় দিতে হচ্ছে । না হলে কখনোই আপনাকে বিদায় দেওয়া সম্ভাব নয়।

আমি আমার বক্তব্য আর বেশি দীর্ঘায়িত করতে চাচ্ছি না। মোঃ রেজাউল করিম ভাই এর কাছে আমার অনুরোধ আপনি অবশ্যই আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং আমাদের জন্য সর্বক্ষণ দোয়া করবেন।

আমরাও আপনার জন্য দোয়া করব যেন আপনি নতুন জায়গায় খুব ভালো থাকেন। হয়তো বদলি হয়ে আপনি জায়গা পরিবর্তন করে অনেক দূরে চলে যাবেন । কিন্তু আপনি সবসময় আমাদের মনের মাঝেই থেকে যাবেন চিরকাল।

আমার বক্তব্যের মধ্যে যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং মোঃ রেজাউল করিম ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে আমি আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য এখানেই শেষ করছি আসসালামু আলাইকুম।

শেষ কথা

উপরে আমরা একটি বদলি জনিত বিদায় বক্তব্য এর নমুনা দিয়েছি । মনে রাখবেন কখনোই এক জায়গার বক্তব্য হুবুহু নকল করে আরেক জায়গায় দেওয়া যায় না।

আমরা এখানে নমুনা হিসেবে মোঃ রেজাউল করিম নামটি ব্যবহার করেছি আপনার বদলি জনিত বিদায় বক্তব্য দেওয়ার সময় অবশ্যই যার বদলি হচ্ছে তার নামটি সেখানে বসাতে হবে।

এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে এখানে আমরা বিভিন্ন কাজের উদাহরণ দিয়েছি নমুনা হিসেবে। যদি আপনার ধর্ম ভিন্ন হয়ে থাকে তাহলে আপনি ভিন্ন ধরনের কথা বলতে পারেন আর আপনার ওই স্টাফ যে সমস্ত কাজকর্ম করেছে সেগুলোকে এখানে বক্তব্যের মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

আপনাকে অবশ্যই পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই ভাবে খাপ খাইয়ে নিয়ে বক্তব্য পেশ করতে হবে। যদি আপনি হুবহু শুধুমাত্র মুখস্ত করে গিয়ে সেখানে বলে দেন তাহলে কিন্তু হবে না।

আপনার ওই ব্যক্তি যে সমস্ত কাজ করেছে অফিসের জন্য সেগুলো সেখানে উল্লেখ করবেন বেশি কিছু বলার চেষ্টা করবেন না। আশা করি আমাদের শেয়ার করা এই বদলি জনিত বিদায় বক্তব্যটি আপনার ভালো লেগেছে।

যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই পোস্টটি নিচে থাকা শেয়ার বাটনটির মাধ্যমে আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করবেন এবং আমাদের এই উদাহরণ ডট কম ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টগুলোও পরতে পারেন।

ভালো লাগতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button