" " " "

ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক – ভাতের মাড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা

আমাদের শরীরের সুস্থতা রক্ষার জন্য ভাত অনেক কার্যকরি একটি খাদ্য। যদি আমার ভাত না খাই তাহলে হয়তো সঠিকভাবে বেঁচেই থাকতে পারবো না। ভাত খাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই দেখা যায় ভাতের মার খায়। তাদের জন্য আজকের পোস্ট এ ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক সহ এই ভাতের মাড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

যদিও ভাতের মার খেলে আমাদের শরীরের অনেক বেশি উপকার হয় বা অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়। তারপরেও অনেকে ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে চান। তাই আজকের পোস্ট এর মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে আপনাদেরকে একদম পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হবে।

ভাত ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। কথায় আছে আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। কিন্তু এই ভাতের পিছনে লুকিয়ে থাকে যে এই ভাতের মার সেটা সম্পর্কে খুব বেশি ভাবি না । প্রায় সবাই আমরা ভাত রান্না করার সময় ভাতের মারগুলো ফেলে দেই। কিন্তু চালের মধ্যে যত পরিমাণ প্রোটিন এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তার প্রায় বেশিরভাগই এই ভাতের মারার সাথে চলে যায়।

এই কারণে অবশ্যই আপনাকে ভাতের মাড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো জেনে নিয়ে নিয়মিত এখন এটি সেবন করতে হবে।

ভাতের মাড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা

মনে রাখবেন প্রতিটা জিনিস এরই ভালো দিক এবং খারাপ দিক দুটোই আছে। তবে এখানে কোন কোন জিনিসের ভালো দিক অনেক বেশি থাকে আবার কিছু কিছু জিনিসের ভালো দিক কম থাকে।

তবে যেটাই হোক না কেন ভাতের মাড়েরও কিন্তু ভালো দিক এবং খারাপ দিক আছে। সেটা নিয়েই এখন আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।

শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয় বর্তমানে সারা বিশ্বে ভাতের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ করা থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই ভাতের মার অংশ নিতে পারে।

যারা নিয়মিত ভাতের মার খেয়ে থাকেন তারা অবশ্যই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়বেন । কারণ এখানে ভাতের মার সম্পর্কে ভালো কিছু আলোচনা করা হবে।

ভাতের মাড়ের উপকারিতা

যেহেতু ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক এর থেকে এই ভাতের মাড়ের উপকারিতা বেশি তাই প্রথমেই আমরা ভাতের মাড়ের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। মনে রাখবেন ভাতের মাড়ের কিন্তু অনেক বেশি উপকারিতা হয়েছে।

শুধুমাত্র ভাত খেলে যে উপকারিতা হবে ভাতের মার খেলেও প্রায় কাছাকাছি উপকারিতা পাওয়া যায়।  নিচে এক এক করে পয়েন্ট আকারে সেগুলো আলোচনা করার হলো।

মুখের ব্রণ থেকে রক্ষা

এই ব্রণ প্রত্যেক ছেলেমেয়েদের প্রায় কমন একটি সমস্যা। অনেক ধরনের চিকিৎসা করার পরেও যাদের মুখ থেকে ব্রণ কোনভাবে দূর হচ্ছেনা তারা চাইলে এই ভাতের মার ব্যবহার করতে পারেন।

তো এর জন্য আপনাকে প্রতিদিন নিয়মিত দুইবার করে ভাতের মার গুলো নিয়ে আপনার মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে দিতে হবে। মাড়ের মধ্যে যে এন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান আছে সেটা আমাদের ত্বকের মধ্যে থাকা প্রদাহ গুলোকে একদম সাড়িয়ে তোলে।

যেহেতু এটি ত্বকের উপর প্রদাহকে সম্পূর্ণরূপে সারিয়ে তুলতে সক্ষম তাই ব্রণের মধ্যে ভাতের মার গুলো নিয়মিত গেলে সেটা ব্রনকে সারিয়ে তুলে ফেলতে পারবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

কোষ্ঠকাঠিন্য অনেক বিভ্রান্তিকর একটা সমস্যা। যদি আপনার পায়খানা ঠিকমতো না হয় তাহলে শরীর অনেক অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

এছাড়াও এই সমস্যাটির কারণে মানুষের পায়ু পথে অনেক ধরনের ইনফেকশনও দেখা যায়। তো যদি আপনার কোষ্ঠকাঠি হয় তাহলে কোন ভাবে অবহেলা না করে অবশ্যই এটা চিকিৎসা করাবেন।

আর হ্যাঁ মার যেহেতু পিচ্ছিল জাতীয় পদার্থ তাই এই মার দিয়ে কিন্তু আপনি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সাড়িয়ে তুলতে পারবেন। যদি আপনার খুব বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে তাহলে প্রতিদিন নিয়মিত দুই গ্লাস করে মার পান করবেন।

এই কাজটি নিয়মিত করতে থাকলে দেখবেন ভবিষ্যতেও আর আপনার এই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাটি থাকবে না।

চুলের অনেক সমস্যা সমাধান করে

মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে এই চুল। আর এই চুলের কারণেই মানুষকে এত সুন্দর দেখায়। তো যদি আপনার চুলের কোন সমস্যা হয় বা চুল অনেক খারাপ দেখায় তাহলে আপনার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে।

এছাড়াও দেখা যায় অনেকের চুল আস্তে আস্তে পড়ে যায় আবার অনেকের চুল কোঁকড়ানো বাড়ানো এবং অসুন্দর্য। তো আপনি যদি নিয়মিত গোসল করার আগে ভাতের মার সুন্দরভাবে চুলে লাগিয়ে রাখতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনার এই সমস্যাগুলো সমাধান হবে।

চুলকে মাথায় আটকিয়ে রাখতে এর গোড়ায় অনেক পুষ্টি দরকার হয় ভাতের মাড়ের মাধ্যমে এই সমস্ত পুষ্টিগুলোর অভাব দূর হয়ে যায়। যার কারণে চুল পড়া বন্ধ হওয়া সহ আরও অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।

তো গোসল করার আগে ভাতের মার লাগাবেন এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর হালকা গরম পানি দিয়ে আপনার মাথা সুন্দরভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে নিয়মিত করতে থাকলে এক সময় দেখবেন আপনার চুলের সৌন্দর্য অনেক অংশে বেড়ে গেছে।

শরীরের দুরেবলতা কাটিয়ে তোলে

যখন আমরা ব্যায়াম করি কিংবা কোন কাজ করি তখন প্রায় সকলেরই শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু বন্ধুরা আপনি কি জানেন এই ভাতের মার ব্যবহার করে শরীরের এই দুর্বলতা কে কাটিয়ে তোলা সম্ভব।

ভাতের মাড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলোর মধ্যে এইটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট। যদি আপনি নিয়মিত ভাতের মাড় পান করেন তাহলে এর মধ্যে থাকা কার্বোহাইড্রেট গুলো আপনার শরীরের অনেক উপাদানের ঘাটতি পূরণ করবে।

এছাড়াও এই মাড়ের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এমাইনো এসিড যেটা আমাদের দেহের মধ্যে থাকা হারকে মজবুত করতে অনেক টা ভূমিকা পালন করে।

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলা

আমাদেরকে সুন্দর দেখানোর জন্য ত্বকের সৌন্দর্য ঠিক রাখা অনেক বড় একটি কাজ। জানলে অবাক হবেন একটি গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া যায় যে ভাতের মার ব্যবহারের ফলে ত্বকের মারাত্মক সমস্যা সমাধান হয়।

এছাড়াও এই ভাতের মারকে প্রাকৃতিক টোনার ও বলা হয়ে থাকে। তোমার ব্যবহার করা কতটা ভালো সেটা আমরা সবাই জানি, তো ভাতের মার থেকে যদি আমরা অটোমেটিক টোনার পেয়ে যাই তাহলে সেখানে ক্ষতি কি।

গবেষণায় এটাও দেখা গিয়েছে যে ভাতের মার মুখে ব্যবহার করলে এর মধ্যে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট গুলো মুখের ছিদ্রগুলোকে অনেক ছোট করে দেয়। যার ফলে মুখের উপরে যে সমস্ত মৃত কোষ থাকে সেগুলোকে এটি ধ্বংস করে ফেলে এবং মুখকে আরো চকচকে করে তোলে।

ভাতের মার থেকে ত্বকের সর্বোচ্চ উপকারিতা পাওয়ার জন্য যা করতে হবে: রাতে ঘুমানোর আগে ভাতের মার কে নিয়ে ভালোমতো আপনার ত্বকের মধ্যে মেসেজ করে দিতে হবে।  তারপরও ঘুমানোর পরে সকালে উঠে হালকা নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

কিভাবে কিছুদিন ভাতের মার ব্যবহার করার পরে আপনি নিজেই এর ফলাফল দেখতে পারবেন।

ডায়রিয়ার সমাধান

যখন কারো পায়খানা একদম পানির মতো পাতলা হয়ে যায় তখন তাকে ডায়রিয়া হিসেবে ধরা হয়। তো অনেক সময় দেখা যায় এই ডায়রিয়ার কারণে মানুষের শরীরে অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে।

এছাড়াও খুব সহজে ডায়রিয়া ভালো হতে চায় না প্রায় ১০-১৫ দিন লেগে যায় অনেকের। কিন্তু এই ভাতের মার দিয়েই আপনার ডায়রিয়াকে খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করে ফেলা যাবে ।

যখনই আপনার পেট খারাপ করার উপক্রম হবে তখনই ভাতের মার এক গ্লাস খেয়ে ফেলবেন।  তবে হ্যাঁ যদি আপনি ভাতের মার খাওয়ার সময় এখানে একটু লবণ মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে আপনার শরীরের ভিতরে খনিজ লবণের পরিমাণ ঠিক থাকবে এবং ডায়রিয়া হলেও আপনার কোন সমস্যা হবে না।

তবে ভাতের মার খেলে এটি ডায়রিয়ার কে ভালো করার ক্ষেত্রেও অনেকটা কাজ করে থাকে। তাই ডায়রিয়া হলে অবহেলা না করে ভাতের মার খেতে পারেন নিয়মিত।

উপরে আমরা বেশ কয়েকটি ভাতের মাড়ের উপকারিতা আপনাদেরকে জানিয়েছি। আপনারা জানলে অবাক হবেন এই সমস্ত উপকারিতা ছাড়াও এই ভাতের মাড়ের আরো অসংখ্য উপকারিতা আছে।

যেহেতু ভাত অনেক কার্যকরী একটি উপাদান আর ভাত থেকেই এই মাড়ের সৃষ্টি হয় তাই মাড়ের এত কাজ। তো এখন আমরা ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর  দিক গুলো নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব।

ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক

যদিও গবেষণায় এই ভাতের মাড়ের তেমন একটা ক্ষতিকর দিক উঠে আসে নাই। যদি আপনি গুগলে ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক লিখে সার্চ করে থাকেন তাহলে দেখবেন কোন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন পাবেন না।

অর্থাৎ এই ভাতের মাড়ের বলতে গেলে কোন ক্ষতিকর দিকই নেই। তারপরেও আজকের পোস্টে আমরা ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আপনাদের সাথে কিছু আলোচনা করব।

✓ হাতের মারে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তাই যদি এটি অনেক বেশি পরিমাণে ত্বকে ব্যবহার করা হয় তাহলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

✓ ভাতের মাড় ত্বকে লাগালে যেহেতু ত্বকের ওপরে থাকা মৃত কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। তাই যখন আপনি এটি বেশি বেশি লাগাতে যাবেন তখনই আপনার ত্বকের মধ্যে থাকা জীবিত কোষগুলোরও এটি ক্ষতি করে ফেলবে।

✓ অনেককেই দেখা যায় ভাতের মারকে পছন্দ করেনা অর্থাৎ তারা এটাকে অরুচি মনে করে। তো তারা যদি এই ভাতের মারকে অরুচি করে খেতে থাকে তাহলে তাদের উপকারিতা এর থেকে ক্ষতি বেশি হয়ে যাবে।  এই কারণে অরুচি করে কখনোই এই সমস্ত জিনিস খাওয়া যাবে না।

তো ওপরে এই কয়েকটি ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক আপনাদের সাথে তুলে ধরলাম। মনে রাখবেন এই ক্ষতিকর দিকগুলো আপনার সাথে তখনই ঘটবে যখন আপনি ভাতের মারকে অতিরিক্ত ব্যবহার করে ফেলবেন।

অতিরিক্ত এটিকে ব্যবহার না করলে কোন সমস্যা হবে না। তো যারা ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তারা আশা করি জেনে গেছেন যে ভাতের মাড়ের তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর দিক নেই ।

ভাতের মাড় মুখে দিলে কি হয়

উপরে আপনারা আশা করি ভারতের ক্ষতিকর দিকগুলো বুঝে গেছেন। কিন্তু অনেকে আছে যারা google এ ভাতের মার মুখে দিলে কি হয় সেটা জানার জন্য সার্চ করে থাকে।

ভাতের মার মুখে দিলে মুখের অনেক উপকার হয়। যদি আপনার মুখে ব্রণ হয়ে থাকে তাহলে এটি ব্রণ কে সারাতে অনেক সাহায্য করবে। এছাড়াও ভাতের মার ব্যবহারের ফলে মুখের মধ্যে থাকা মরা কোষগুলো উঠে যায়।

আর এগুলো উঠে যাওয়ার ফলে মুখের উজ্জ্বলতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। আশা করি ভাতের মার মুখে দিলে কি হয় সেটা আপনারা খুব ভালো মতো বুঝতে পেরেছেন।

পরিশেষে

আজকের পোস্টে আমরা ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক সহ ভাতের মাড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আমরা আপনাদেরকে ভালোভাবেই বলেছি যে ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক গুলোর মধ্যে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন কিছু নেই।

তারপরও আমরা বেশ কয়েকটি পয়েন্ট আপনাদেরকে বলেছি এগুলো অবশ্যই আপনার কাজে লাগবে। প্রত্যেকটা জিনিসেরই ক্ষতিকর দিক থাকে তবে যদি আপনারা পরিমাণ মতো এবং সীমিত ভাবে সেটি ব্যবহার করেন তাহলে কোন সমস্যাই হবে না।

তাই পরিশেষে বলবো ভাতের মারকে সীমিতভাবে পরিমাণমতো ব্যবহার করুন তাহলে এটি আপনার উপর কোন খারাপ প্রভাব ফেলবে না। আর হ্যাঁ আজকের পোস্টে আলোচনা করা বিষয়ের মধ্যে যদি কেউ কিছু বুঝতে না পারেন সেটা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

আর হ্যাঁ যদি আপনি চান তাহলে এই ভাতের মাড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা পোস্টটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করে তাদেরকেও বিষয়গুলো জানার সুযোগ করে দিতে পারেন।

ভালো লাগতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button