লোহিত রক্তকণিকা শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার মধ্যে পার্থক্য দেখে নিন

আসসালামু আলাইকুম আপনি কি রক্ত কণিকা গুলোর মধ্যে পার্থক্য জানতে চান? আজকের উদাহরণ ডটকম এর এই পোস্টে লোহিত রক্তকণিকা শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

মানুষের দেহের মোট ওজনের ৫ থেকে ৬ শতাংশ থাকে রক্ত। এই রক্তের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধরনের ভাসমান কোষগুলোকে বলা হয় রক্তকণিকা। এক ফোটা রক্তের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ থাকে এই রক্তকণিকা

এখানে বলে রাখা ভালো আমাদের দেহে যে সমস্ত রক্ত রয়েছে এগুলো সাধারণত হেমাটোপয়েসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়ে থাকে। আর এগুলো যেহেতু নিজে নিজে বিভাজিত হতে পারে না তাই এগুলোকে কোষ না বলে কণিকা বলা হয়ে থাকে।

যাই হোক চলো তাহলে এখন আমরা রক্তের মধ্যে থাকা এই লোহিত রক্তকণিকা শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার মধ্যে পার্থক্য গুলো জেনে নেওয়া শুরু করি ।

লোহিত রক্তকণিকা শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার মধ্যে পার্থক্য

রক্তের মধ্যে থাকা যে ৪৫ শতাংশ রক্ত কণিকা বিদ্যমান সেগুলোর মধ্যে আবার তিন প্রকারের রক্ত কণিকা থাকে।

আর এই তিন ধরনের রক্ত কণিকা গুলা হচ্ছে

  • এরিথ্রোসাইট বা লোহিত রক্ত কণিকা
  • লিউকোসাইট বা শ্বেত রক্তকণিকা
  • থ্রম্বসাইট বা অনুচক্রিকা

উপরে উল্লেখিত এই তিন ধরনের রক্ত কণিকা গুলো এবং ৫৫ শতাংশ রক্তরস নিয়েই আমাদের দেহের মধ্যে থাকা রক্তগুলো তৈরি হয়। কিন্তু রক্ত কণিকা গুলির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

আর পরীক্ষার মধ্যে লোহিত রক্তকণিকা শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার মধ্যে পার্থক্য গুলো হর হামেশাই এসে থাকে। যার কারণে আপনাকে এগুলো ভালোমতো জেনে নিতে হবে।

এক নজরে লোহিত রক্তকণিকা শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার মধ্যে পার্থক্য

✓আকৃতি: লোহিত রক্ত কণিকার আকৃতি সাধারণত গোল দ্বী অবতল চাক্তির মত। অন্যদিকে শ্বেত রক্ত কণিকার কোন ধরনের নির্দিষ্ট আকৃতি নেই এই রক্ত কণিকাটি আকৃতি হীন ।

See also  জনপ্রিয় কিছু শহরে ব্যবসার আইডিয়া জেনে নিন

একই সাথে অনুচক্রিকা রক্তকণিকা টির আকৃতি অনিয়তাকার । এছাড়াও এই অনুচক্রিকা কণিকাটি বিভিন্ন সময় রডের মত হয় আবার ডিম্বাকার আকৃতিতেও দেখা যায়। আবার রক্তের মধ্যে বিভিন্ন সময় এটি দানাদার হয়েও থেকে যায়।

আকার বা সাইজ: লোহিত নামের রক্তর যে কণিকা আছে এটার গর ব্যাস ৭.৩ মাইক্রোমিটার এবং গড় স্থূলতা ২.২ মাইক্রোমিটার। এছাড়া এই কণিকাটির কিনারা অপেক্ষা মাঝখানে অনেক পাতলা।

শ্বেত রক্তকণিকাটি আকৃতি বিহীন জন্য এর কোন নির্দিষ্ট সাইজ নেই। তবে অনুচক্রিকার ব্যাস এক থেকে চার মাইক্রোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

✓ নিউক্লিয়াস এর উপস্থিতি : লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে কোন ধরনের নিউক্লিয়াস থাকে না কিন্তু এটি অক্সিজেনবাহি হিমোগ্লোবিন যুক্ত থাকে। তবে এই রক্তকণিকাটি যখন প্রথম উৎপন্ন হয় তখন এর মধ্যে নিউক্লিয়াস থাকে আর যখন একটু পুরাতন হয়ে যায় তখন এর মধ্যে আর নিউক্লিয়াস খুঁজে পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে সবসময় বড় নিউক্লিয়াস যুক্ত থাকে। এছাড়াও অনুচক্রিকার মধ্যেও কোন ধরনের নিউক্লিয়াস থাকে না।

✓ রং: লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে যেহেতু হিমোগ্লোবিন থাকে তাই এর বর্ণ সব সময় লাল দেখায়। পাশাপাশি শ্বেত রক্ত কণিকার সাইটোপ্লাজম এর মধ্যে যেহেতু হিমোগ্লোবিন নেই তাই এগুলোর মধ্যে কোন রং থাকে না। এছাড়াও অনুচক্রিকার মধ্যেও কোন ধরনের রং দেখা যায় না।

✓কনার সংখ্যা: মানুষের শরীরের মধ্যে প্রতি কিউবিক মিলিমিটার অংশে ৫০ লক্ষ লোহিত রক্তকণিক অবস্থা রয়েছে। অপর পক্ষে মানুষের শরীরের মধ্যে প্রতি ঘন মিলিমিটারে শ্বেত রক্তকণিকা থাকে ৫ থেকে ৮ হাজার ।

আর অনুচক্রিকা নামক রক্তের কণিকাটি মানুষের রক্তের মধ্যে প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে থাকে দেড় লক্ষ থেকে তিন লক্ষ পর্যন্ত।

✓ কণিকার কাজ: প্রতিটা রক্ত কণিকা আলাদা আলাদা কাজের জন্য সেগুলো রক্তে অবস্থান করে। রক্তের মধ্যে থাকা তিন ধরনের রক্ত কণিকার আলাদা আলাদা তিনটি কাজ রয়েছে।

লোহিত নামক রক্ত কণিকার মূল কাজ হচ্ছে রক্তের মধ্যে ফুসফুস থেকে অক্সিজেন পরিবহন করা। এছাড়াও এটি রক্তের ঘনত্ব রক্ষা করে থাকে এবং সামান্য পরিমাণের কার্বন ডাই অক্সাইড ও পরিবহন করে। এছাড়াও রক্তের মধ্যে থাকা অম্ল এবং ক্ষারের ভারসাম্য ও রক্ষা করে থাকে। এই লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে এন্টিজেন প্রোটিন সংযুক্ত থাকে যার কারণে রক্তকে আলাদা আলাদা গ্রুপিং এ ভাগ করা যায়।

See also  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবিধা সমূহ কি কি?

অপরদিকে শ্বেত রক্ত কণিকা বা লিউকোসাইটের প্রধান কাজ হচ্ছে দেহের মধ্যে থাকা জীবনু গুলোকে ফ্যাগোসাইটসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে দেওয়া। এই রক্তকণিকা টি আমাদের দেহের মধ্যে অনেক এন্টিবডি উৎপন্ন করে। এছাড়াও শ্বেত রক্তকণিকার কারণে এলার্জি ও প্রতিরোধ হয়ে যায়। রক্ত যাতে রক্ত বাহিকার মধ্যে কোন ধরনের জমাট বাঁধতে না পারে সেজন্য এই শ্বেত রক্ত কণিকা থেকে অনবরত হেপারিন ও হিস্টামিন নিশ্রিত হতে থাকে। এক কথায় এই শ্বেত রক্তকণিকাটি আমাদের দেহের মধ্যে যাবতীয় রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

আর রক্তের তিন নম্বর থ্রম্ব সাইট বা অনুচক্রিকা নামক কণিকাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করে থাকে। যখন মানুষের দেহের কোন অংশ কেটে যায় এবং সেখান থেকে রক্ত পড়া শুরু করে তখন এই অনুচক্রিকা কণিকাটি এসে সেখানে রক্ত জমাট বেধে দেয়।

✓ কণিকার উৎপত্তিস্থল: লোহিত রক্তকণিকা শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার মধ্যে পার্থক্য এরমধ্যে এর উৎপত্তিস্থল এও একটি পার্থক্য রয়েছে। যেটা নিচে বর্ণনা করা হলো:

যখন মানুষ এর আকৃতি ভ্রূণ অবস্থায় থাকে তখন লোহিত রক্ত কণিকাটি যকৃত এবং প্লীহা থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু যখন মানুষ সম্পূর্ণ রূপ ধারণ করে তখন এটি লাল অস্থিমজ্জা থেকে উৎপন্ন হতে শুরু করে।

শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে দুইটি ভাগ আছে দানাদার আরেকটি হচ্ছে অদানাদার। এরমধ্যে দানাদার শ্বেত রক্তকণিকা গুলো লাল অস্থিমজ্জা থেকে সবসময় তৈরি হয়ে থাকে। কিন্তু অপরপক্ষে ওদানাদার শ্বেত রক্ত কণিকা গুলো প্লিহা এবং লসিকা গ্রন্থ ও লাল অস্থিরমজ্জা থেকেও উৎপন্ন হয়।

থ্রোম্বসাইট বা অনুচক্রিকা রক্তের কণিকাটি সাধারণত মানুষের দেহের লাল অস্থি মজ্জা থেকেই সব সময় উৎপন্ন হতে থাকে।

✓ আয়ুষ্কাল: যখন আমরা পরীক্ষার খাতায় লোহিত রক্তকণিকা শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার মধ্যে পার্থক্য গুলো লিখব তখন অবশ্যই এই আয়ুষ্কালের পার্থক্যটা উল্লেখ করতেই হবে। কারণ আয়ুষ্কাল এর মধ্যেও অনেক বড় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

See also  মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি বন্টন এর হিসাব বুঝে নিন (সহজ ভাষায়)

লোহিত রক্ত কণিকাটির আয়ুষ্কাল সাধারণত ১২০ দিন হয়ে থাকে। অর্থাৎ একটি লোহিত রক্ত কণিকা সৃষ্টি হওয়া থেকে সেটি ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত মোটামুটি ১২০ দিনের মতো সময় লাগে।

শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে যেহেতু অনেক ধরনের ভাগ আছে তাই এটির ভাগ গুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের আয়ুষ্কাল হয়ে থাকে। তবে সে তো রক্ত কণিকার মধ্যে থাকা প্রকারগুলো এর গড় আয়ুষ্কাল ২ থেকে ১৫ দিন ধরা হয়।

আর সর্বশেষ রক্ত কণিকাটির আয়ুষ্কাল 5 থেকে 9 দিন হয়ে থাকে। অর্থাৎ এই অনুচক্রিকা রক্তকণিকা সৃষ্টি হওয়া থেকে ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত পাঁচ দিন থেকে নয় দিন এর মতো সময় লাগতে পারে।

উপসংহার

আজকের উদাহরণ ডট কম এর পোস্টে আমরা লোহিত রক্তকণিকা শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার মধ্যে পার্থক্য গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করেছি।

এখানে আমরা যে সমস্ত পার্থক্য গুলোর কথা উল্লেখ করেছি এগুলো পরীক্ষায় উল্লেখ করলে সর্বোচ্চ নাম্বার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে ইনশাল্লাহ।

এই পোস্টে যে সমস্ত রক্তকণিকার মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করা হয়েছে এগুলো সবগুলো উচ্চ মাধ্যমিক এর গাজী আজমল স্যার এর জীববিজ্ঞান বই থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই অন্যান্য লেখক এর বইয়ের সাথে এই তথ্য গুলোর মিলে নাও থাকতে পারে।

তবে হ্যাঁ যদি আমাদের আজকের এই পোষ্টের কোন টপিক বুঝতে না পারেন কিংবা পোষ্টের মধ্যে কোন ভুল ভ্রান্তি বের হয় তাহলে সেটা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর কোন প্রশ্ন থাকলে সেটা আমাদের ফেসবুক পেইজে নক দিয়েও জিজ্ঞেস করতে পারেন আমরা সাথে সাথে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

ভালো লাগতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button