আওয়াবিন নামাজের নিয়ম ও নিয়ত ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত

আসসালামু আলাইকুম আপনি আওয়াবিন নামাজের নিয়ম এবং এই আওয়াবিন নামাজের ফজিলত সহ আওয়াবিন নামাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান ? তাহলে আজকের এই পোস্ট শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি আওয়াবিন নামাজের নিয়ম সহ আওয়াবিন নামাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

মহান আল্লাহ তা’আলা দুইটা জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত করার জন্য একটি হচ্ছে জিন আর একটি হচ্ছে মানুষ। তো একজন মুসলমানের জন্য নামাজ পড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হাদিসে আছে বেহেস্তের চাবিই হচ্ছে মূলত নামাজ। জানলে অবাক হয়ে যাবেন কুরআন মাজীদে নামাজ পর শব্দটা যতবার আছে অন্য কোন শব্দ এতবার নেই। অর্থাৎ শুধুমাত্র কোরআন মাজীদেই নামাজ শব্দটাই এসেছে মোট ৮২ বার।

আর যদি আমরা নামাজ আদায় না করি তাহলে মৃত্যুর পর অবশ্যই ভয়ংকর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ নামাজের মাধ্যমেই একজন মুসলিম এবং কাফেরকে আলাদা করে দেখা হয়।

যাই হোক আমাদের সবারই অবশ্যই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে। কিন্তু এই নামাজের মধ্যে আওয়াবিন নামাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। যার কারণে আজকের পোস্টে আমরা আওয়াবিন নামাজের নিয়ম এবং আওয়াবিন নামাজের ফজিলত সহ সবকিছু আপনাদেরকে বলব।

আওয়াবিন নামাজের সময়সূচী

আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত কিংবা আওয়াবিন নামাজের নিয়ম জানার আগে অবশ্যই আপনাকে এই আওয়াবিন নামাজের সময়সূচী সম্পর্কে বুঝতে হবে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে এই নামাজের সময় হচ্ছে মাগরিবের নামাজের পর থেকে এশার নামাজের আগে পর্যন্ত।

আওয়াবিন নামাজ সম্পর্কে যে কয়েকটি হাদিস বর্ণনা পাওয়া যায় সবগুলোতে এই নামাজকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম মাগরিব নামাজের পর থেকে এশার নামাজের আগে এই সময়ের মধ্যে পড়তেন।

তো যারা আওয়াবিন নামাজের সময়সূচী সম্পর্কে একটু সমস্যায় ছিলেন আশা করি আপনারা আওয়াবিন নামাজের সময় সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝে গেছেন।

আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত

কোন নামাজ আদায় করার আগে অবশ্যই সেই নামাজ কত রাকাত সেটা সম্পর্কে আমাদেরকে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে।

এই কারণে অবশ্যই আওয়াবিন নামাজ পড়ার আগে এই আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত সেটা আমাদেরকে জেনে নিতে হবে। চলুন এখন আমরা সে সম্পর্কে আলোচনা করা শুরু করি।

এখানে বলে রাখা ভালো হাদিস শরীফে আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত এটা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তবে হ্যাঁ এই আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত করে পড়া যাবে সেটা অবশ্যই বিস্তারিত আলোচনা আছে।

See also  ইয়া বাসিতু পড়লে কি হয় এর অর্থ ও ইয়া বাসিতু নামের ফজিলত

বলে রাখা ভালো আওয়াবিন নামাজ কিন্তু একটি নফল নামাজ। অর্থাৎ আপনার যে কোন ইচ্ছা খুশি এই রাকাত আদায় করতে পারবেন। শুধু যে সমস্ত ফরজ এবং সুন্নত নামাজ আছে সেগুলোর ক্ষেত্রে রাকাত ধরে বেঁধে দেওয়া আছে।

কিন্তু যখন আমরা নফল নামাজ আদায় করব তখন সেখানে নিদৃষ্ট করে কোন রাকাত সংখ্যার কথা বলা হয় না। তো এই আওয়াবীনের নামাজ আপনারা ২ থেকে শুরু করে ২০ রাকাত পর্যন্ত আদায় করতে পারবেন।

অর্থাৎ আপনার চাইলে শুধুমাত্র দুই রাকাত আদায় করতে পারবেন আবার চাইলে একবারে ২০ রাকাত আদায় করতে পারবেন। তো কিভাবে এই আওয়াবীনের নামাজ আদায় করুন বা আওয়াবিন নামাজের নিয়ম আমি আপনাদের কে এর পরে বুঝিয়ে দেবো।

আওয়াবিন নামাজের নিয়ম

ইসলামের রুকন গুলোর মধ্যে নামাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি রোকন। আর এই নামাজ আদায় না করলে আমরা কোনভাবেই মৃত্যুর পরে শাস্তির হাত থেকে রেহাই পাব না।

যদিও হাদীস শরীফে ফরজ নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে নিয়ম গুলো বাধ্যবাধকতা করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নফল নামাজ আদায় করার জন্য কোন ধরনের বাধ্যবাঁধতকা করে দেওয়া হয়নি।

আর এই কারণ আমরা চাইলে নফল নামাজ আদায় না করলেও কোন ধরনের গুনাহ হবে না। কিন্তু হ্যাঁ যদি এই নফল নামাজগুলো সঠিকভাবে আদায় করতে পারি তাহলে এগুলো আমাদের ফরজ এর ঘাটতি পূরণ করবে।

এই কারণে হাদীস শরীফে অনেক নফল নামাজ এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাজ হচ্ছে আওয়াবিন এর নামাজ। তো নিচে এখন আমরা আওয়াবিন নামাজের নিয়ম আপনাদেরকে বুঝিয়ে দেবো।

আগেই বলা হয়েছে যে আওয়াবিন নামাজ কখন পড়বেন। যদি আমরা মাগরিবের নামাজের পরে কোন ধরনের কথাবার্তা না বলে এই নামাজ আদায় করতে পারি তাহলে সেটা আমাদের জন্য সবথেকে ভালো হয়।

আর হ্যাঁ এই আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত পড়বেন সেটাও কিন্তু আপনাদেরকে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়াবিন নামাজ এর আলাদা কোন নিয়ম নেই।

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যেভাবে নফল নামাজগুলো আদায় করি ঠিক একইভাবে এই নামাজ ও আদায় করা যাবে।

কিন্তু হ্যাঁ যেহেতু এখানে দুই রাকাত থেকে ২০ রাকাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করা যাবে তাই আপনারা চাইলে দুই রাকাত করে করে নামাজ আদায় করতে পারেন।

See also  নূরানী পদ্ধতিতে নামাজের ওয়াজিব কয়টি ও কি কি বিস্তারিত

এখন এই দুই রাকাত নামাজ আপনারা সাধারণ নিয়মেই পড়তে পারবেন।

✓ প্রথমে নিয়ত করবেন তারপর সূরা ফাতেহা পড়ার পরে অন্য আরেকটি সূরা মিলিয়ে রুকু সেজদা করবেন। এভাবে দুই রাকাত নামাজ পড়ার পরে বৈঠক দিয়ে তাশাহুদ এবং দোয়া, দরুদ পড়ে সালাম ফিরিয়ে নেবেন।

উপরের আওয়াবিন নামাজের নিয়ম অনুসরণ করে আপনারা দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করতে পারেন যতগুলো ইচ্ছা। তবে হ্যাঁ এখানে ২০ রাকাত নামাজের বেশি পড়া ঠিক নয়। আর যদি আপনারা ৬ রাকাত নামাজ পড়তে পারেন তাহলে সেটাই বেশি উত্তম হয়।

আশা করি আওয়াবিন নামাজের নিয়ম সম্পর্কে আপনাদের মনে আর কোন ধরনের প্রশ্ন নেই। আবারো বলছি এটা কোন ফরজ নামাজ নয় । তাই দৈনন্দিন জীবনে আমরা যেভাবে নামাজ পড়ি সেইভাবে নামাজ পড়া যাবে। শুধুমাত্র এখানে দুই রাকাত করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে নামাজ পড়াই ভালো।

আওয়াবিন নামাজের ফজিলত

যে কোন নামাজের ফজিলত অনেক বেশি। তবে এই যেহেতু নফল নামাজ আর নফল নামাজের প্রধান ফজিলত হলো এটি আদায় করলে আল্লাহ তালার নিকটবর্তী আশা যায়।

তবে এই আওয়াবীন নামাজের ফজিলত সম্পর্কে বেশকিছু হাদিসে স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু হাদিস নিচে উল্লেখ করা হলো –

✓ হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন যদি কোন ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের পরে কোন কথাবার্তা না বলে এবং ৬ রাকাত নফল নামাজ আদায় করে। তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে ১২ বছর নফল নামাজ আদায় করার সওয়াব প্রদান করবে। হাদিসটি সুনানে তিরমিজির ১ম খন্ডের ৯৮ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে নেওয়া।

✓ আওয়াবিন নামাজের ফযীলত সম্পর্কে আরো কিছু হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায় , মোঃ ইবনে আম্মার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে, তিনি তার পিতাকে মাগরিবের নামাজের পরে দুই রাকাত করে নফল নামাজ আদায় করতে দেখেছেন।

এবং তার পিতাকে এটাও বলতে শুনেছেন যে রসূল সাঃ বলেছে যদি কোন ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের পরে এবং এশার নামাজের আগে পর্যন্ত নফল নামাজ আদায় করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে সকল গুনাহ মাফ করবে যদি তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার পরিমাণও হয়।

✓ এছাড়াও তিরমিজি শরীফ থেকে পাওয়া যায় হযরত আয়েশা রাঃ হয়তো বর্ণনা হয়েছে; নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেছেন যে এশার নামাজ আদায় করার আগে মুহূর্তে কেউ যদি ২০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি বড় ঘর বানিয়ে দেন।

See also  ইয়া কাবিয়ু ইয়া মাতিনু অর্থ কি - ইয়া মাতিনু ইয়া কাবিয়ু এর ফজিলত

উপরে আমরা আওয়াবিন নামাজের ফজিলত সম্পর্কে যে কয়টি হাদিস বর্ণনা করেছি এগুলো সবগুলোই সহিহ। এগুলো পড়ার মাধ্যমেই আশা করি আপনারা আওয়াবিন নামাজের ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে গেছেন।

আওয়াবিন নামাজের নিয়ত

অনেকে আমরা আছি যারা আরবিতে নিয়ত করে নামাজ আদায় তাই করি। কিন্তু বন্ধুরা এই নিয়ত গুলো কোন হাদিস থেকে বর্ণিত হয়নি। তাই যদি আপনারা মুখে নিয়ত উচ্চারণ না করেও নামাজ আদায় করেন তাহলেও নামাজ হয়ে যাবে।

তারপরেও আপনার যেহেতু আওয়াবিন নামাজের নিয়ত খুজতে এসেছেন তাই নিচে নামাজের নিয়তটি আপনাদের জন্য দিয়ে দিলাম।

আওয়াবিন নামাজের নিয়ম ও নিয়ত ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত

আশাকরি আপনারা আওয়াবিন নামাজের নিয়ম ও নিয়ত গুলো ভালোভাবেই শিখিয়ে গেছেন।

পরিশেষে

ইসলামের মধ্যে মোট পাঁচটি রোকন আছে। এইসব রোকন গুলোর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং সব থেকে বেশি ফজিলতপূর্ণ হচ্ছে নামাজ আদায় করা। নামাজ পড়লে যেমন আমরা সুফল ভোগ করতে পারব বিপরীতে নামাজ না পড়লে মৃত্যুর পর অনেক বেশি আযাব ভোগ করতে হবে।

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রত্যেকের ওপরই ফরজ। একজনের নামাজ যদি অন্য কোন পড়ে দেয় তাহলে সেটা কখনোই হবে না । যে ব্যক্তির নামাজ তাকেই সঠিক ভাবে আদায় করতে হবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মানুষের নিঃশ্বাস আছে ততক্ষণ পর্যন্তই তাকে আল্লাহর এই ইবাদতটি করে যেতে হবে। যদি বসে না পারে তাহলে শুয়ে,  শুয়ে না পারলে ইশারায় আদায় করতে হবে।

আর যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেয় তাহলে মৃত্যুর পর তার পরিনাম অনেক ভয়াবহ হবে। এই কারণে অবশ্যই উচিত আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া দৈনন্দিন।

যদি কোন কারণে আমাদের নামাজ কাজা হয়ে যায় তাহলে পরবর্তীতে অবশ্যই সেটা আবার কাজা পড়ে নিবেন। আর হ্যা আজকের পোস্টে আমরা আওয়াবিন নামাজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলো আলোচনা করেছি।

আশা করছি আমাদের আলোচনা করা এই আওয়াবিন নামাজের নিয়ম এবং নামাজের ফজিলত সহ যাবতীয় বিষয়গুলো আপনারা বুঝে গেছেন। এরপরও যদি কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে সেটা অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদেরকে জানাবেন।

ভালো লাগতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button