" " " "

এশার নামাজ ১৭ রাকাত কি কি বিস্তারিত জেনে নিন

আমরা অনেকেই জানি এশার নামাজ ১৫ রাকাত। কিন্তু দেখা যায় বিভিন্ন সময় আমরা অনেককেই এশার নামাজ ১৭ রাকাত পড়তে দেখি।

আর এই ১৭ রাকাত এশার নামাজ পড়তে দেখার পর অনেকের মনে এশার নামাজ 17 রাকাত কি কি এই প্রশ্নটি জেগে ওঠে। এই কারণে আজকের পোস্টে আমরা এশার নামাজ ১৭ রাকাত কি কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। একজন কাফের এবং একজন মুসলমানকে আলাদা করার একমাত্র উপায় হচ্ছে নামাজ। যদি আপনি নামাজ না পড়েন তাহলে আপনি অবশ্যই একজন কাফের হিসেবে গণ্য হবেন।

আর নামাজ পড়া ব্যতীত কোনভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব নয়। আমরা যে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি এই নামাজের মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি।

কিন্তু এই নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন জনের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। এই কারণে আজকের পোস্টে আমরা এশার নামাজ ১৭ রাকাত কি কি সেটা আপনাদেরকে বিস্তারিত বুঝিয়ে দেব।

এশার নামাজ ১৭ রাকাত কি কি

বন্ধুরা বিভিন্ন নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে মতভেদ এর অনেক বড় একটি কারণ রয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে কোন হাদিস বা কোরআনে সরাসরি কোন নামাজের মোট রাকাত সংখ্যা সঠিকভাবে উল্লেখ করা নেই।

অর্থাৎ এশার নামাজ মোট কত রাকাত সেটা কোন হাদিসে সরাসরি উল্লেখ নেই। আবার অন্যান্য নামাজের রাকাত সংখ্যাও সেইভাবে টোটাল হিসাব নেই।

বিভিন্ন হাদিসে ফরজ নামাজের হিসাবটা শুধু সঠিকভাবে উল্লেখ করা আছে। অর্থাৎ কোন ওয়াক্ত নামাজের ফরজ নামাজ কত রাকাত হবে সেটা স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে এবং এই ফরজ নামাজ সম্পর্কে কারো কোন মতভেদ নেই।

তবে হ্যাঁ বিভিন্ন হাদিস থেকে পাওয়া যায় এই ফরজ নামাজের আগে এত রাকাত সুন্নত নামাজ আছে। আবার ফরজ নামাজের পরে এত রাকাত সুন্নত নফল নামাজ আছে এগুলো মিলেই মোটা রাখার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু রসূল সাঃ এর হাদিসের বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি আছে। অর্থাৎ দেখা যায় কিছু কিছু হাদিস জয়ীফ আবার কিছু কিছু হাদিস জাল আছে। আর এই কারণে অনেক ওলামায়ে কেরামগণ বিভিন্ন হাদিস বিশ্বাস করতে চায় না।

যার কারণে এশার নামাজ কেউ 15 রাকাত পড়ে আবার কেউ এশার নামাজ ১৭ রাকাত পড়ে। যাইহোক আপনি যেহেতু এশার নামাজ 17 রাকাত কি কি সেটা জানার জন্য এই পোস্টে চলে এসেছেন তাই এখন আমরা চলুন সেটা জেনে নেই।

প্রথম সুন্নত নামাজ

এশার নামাজ এর শুরুতেই প্রথমে আমাদেরকে সুন্নত নামাজ আদায় করে নিতে হয়। আর এই সুন্নত নামাজটি বিভিন্ন হাদিস থেকে পাওয়া যায় যে এখানে চার রাকাত সুন্নত নামাজ রয়েছে।

তবে অনেক মুহাদ্দিসগণ বলেন যে এই চার রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ার তেমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ এই নামাজটি আপনি চাইলে পড়তে পারবেন আবার না পড়লেও কোন গুনাহ হবে না। তাহলে আমরা এশার নামাজের শুরুতে চার রাকাত সুন্নত নামাজ পেয়ে গেলাম।

দ্বিতীয় ফরজ নামাজ

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফরজ নামাজ মোট ১৭ রাকাত রয়েছে। তবে এই নামাজে কোন ওয়াক্তে কত রাকাত ফরজ নামাজ রয়েছে এগুলো বিভিন্ন ধরনের সহিহ হাদিস থেকে পাওয়া যায়।

আর এখানে ভালো ব্যাপার হচ্ছে ফরজ নামাজ কত রাকাত করে পড়া হবে এটা কোন আলেমগণই দ্বিমত পোষণ করে না অর্থাৎ প্রত্যেক আলেমগণের মত এক।

আর এই এশার নামাজের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আলেমগণই একমত যে এখানে 4 রাকাত ফরজ নামাজ পড়তে হয়। তাহলে আমরা প্রথমে চার রাকাত সুন্নত এবং তারপর চার রাকাত ফরজ নামাজ পেলাম অর্থাৎ এখানে মোট আট রাকাত নামাজ হল।

৩য় তে আবার সুন্নত

প্রতি ওয়াক্ত নামাজের ক্ষেত্রে ফরজ নামাজ শুধু মাত্র একবার পড়তে হয়। কিন্তু বিভিন্ন হাদিস থেকে পাওয়া যায় ফরজ নামাজের আগে একবার সুন্নত নামাজের নির্দেশ আবার পরে আরেকবার অন্য রকম সুন্নত নামাজের নির্দেশ।

তবে এই সুন্নত নামাজগুলো নিয়ে মতভেদের কারণে রাকাত সংখ্যা ভিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু হ্যাঁ এশার নামাজের ফরজ নামাজ আদায় করার পরে যে সুন্নত নামাজ আছে এটা নিয়েও কোন আলেমের মতভেদ নেই।

অর্থাৎ এশার নামাজ চার রাকাত ফরজ পড়ার পরে এখানে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ সবাইকে আদায় করে নিতে হবে এটা সহি হাদিস থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায়।

এখানে আমরা উপরে ৮ রাকাত নামাজ এবং পরে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পেলাম অর্থাৎ মোট ১০ রাকাত নামাজ হয়ে গেল।

চতুর্থ তে নফল নামাজ

ওপরে দুই রাকাত সুন্নত নামায আদায় করার পরে এখানে হাদিস থেকে আবার দুই রাকাত নফল নামাজের নির্দেশ পাওয়া যায় ।

তবে হ্যাঁ এই নফল নামাজ গুলো চাইলে কেউ পড়তে পারবে আবার কেউ না পড়লেও কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু হাদিস থেকে পাওয়া যায় নফল নামাজ আদায় করার মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার নিকটে যাওয়া যায় ।

বিভিন্ন হাদিস থেকে এখানে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করার নির্দেশ পাওয়া গিয়েছে। উপরে আমরা মোট ১০ রাকাত নামাজ পেয়েছিলাম তারপর এই দুই রাকাত নফল নামাজ সহ মোট ১২ রাকাত নামাজ পেলাম।

বেতের নামাজ

দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নামাজ পড়তে হয় আর তার নাম হচ্ছে বেতর নামাজ। এই বেতর নামাজটি যদিও এশার নামাজের সাথে সম্পৃক্ত নয় তারপরও এশার নামাজের সাথে রাকাত সংখ্যায় যোগ দেওয়া হয়।

এই বেতর নামাজ নিয়ে হাদিস বিশারদগণের মধ্যে অনেক মতবিরোধ দেখা যায়। তবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সহিহ হাদিস থেকেই বেতের নামাজের প্রমাণ পাওয়া যায়।

তবে হ্যাঁ তিনি বিভিন্নভাবে এই নামাজ আদায় করেছেন যার কারণে আমরাও চাইলে কয়েকটি উপায় বেতর নামাজ আদায় করতে পারি।

এই বেতর শব্দের অর্থ হচ্ছে বিজোড় আর বিজোড় কে আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন তিনি নিজেও বিজোড়। এখানে বিভিন্ন হাদিসে পাওয়া যায় এক রাকাত বিতের নামাজের কথা আবার তিন রাকাত আবার পাঁচ রাকাত সাত রাকাত।

অর্থাৎ আপনি যেকোন বিজোড় সংখ্যক রাকাত এই বেতর নামাজের ক্ষেত্রে আদায় করতে পারবেন। কিন্তু আমরা যারা এশার নামাজ ১৭ রাকাত আদায় করে থাকি তারা এখানে তিন রাকাত বিতর নামাজ প্রতিনিয়ত আদায় করি।

তাহলে উপরে থাকা ১২ রাকাত এবং এখনকার তিন রাকাত বিতর নামাজ মিলে এখানে মোট ১৫ রাকাত নামাজ পেলাম।

আবার নফল নামাজ

যে সকল ব্যক্তি বা মানুষ এশার নামাজ ১৫ রাকাত আদায় করে থাকে তারা এই বিতর নামাজ পড়ার পরে আর কোন নামাজ আদায় করে না।

তবে হ্যাঁ যারা আবার এশার নামাজ 17 রাকাত আদায় করে অভ্যস্ত তারা এই বিতর নামাজের পরে আবারও একটি নফল নামাজ প্রতিনিয়ত আদায় করে থাকে ।

আর তারা বেতর নামাজ তিন রাকাত পড়ার পরে এখানে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে। আর এই দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে খুব বেশি একটা বাধ্যবাধকতা নেই।

এই কারণে কেউ চাইলে এই নফল নামাজটি পড়তে পারে আবার কেউ না চাইলে নফল নামাজটি নাও পড়তে পারে।

তো যেহেতু অনেকে শেষের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেনা এই কারণে তারা এশার নামাজ ১৫ রাকাত পড়ে অভ্যস্ত। কিন্তু যারা আবার শেষে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে তাদের ক্ষেত্রে এশার নামাজ 17 রাকাত হয়ে যায়।

কিন্তু শেষের এই নফল নামাজ নিয়ে বিতর্কের প্রয়োজন নেই কারণ এগুলো নামাজ খুব বেশি একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় শুধুমাত্র ফরজ নামাজটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোন ওয়াক্তের শুধুমাত্র ফরজ নামাজ আদায় করা হয় তাহলে সেই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা হয়ে যায়।

পরিশেষে

বিভিন্ন হাদিস থেকে পাওয়া যায় এশার নামাজের বিভিন্ন রাকাত সংখ্যা। এই কারণে আমরা এশার নামাজ 17 রাকাত নিয়ে অনেকেই মতবিরোধ করে থাকি।

যারা জানতেন না যে এশার নামাজ 17 রাকাত কি কি তাদেরকে আমি বিস্তারিত যোগ করে বুঝিয়ে দিলাম। আপনার ক্ষেত্রে কেন 15 রাকাত হয় সেটাও আশা করি আপনি বুঝে গেছেন।

তবে আপনি এশার নামাজ ১৭ রাকাত আদায় করেন কিংবা 16 রাকাত দুই ক্ষেত্রেই আপনার নামাজ আদায় করা হয়ে যাবে।  কারণ নফল নামাজ নিয়ে ঝগড়া করার কোন প্রয়োজন নেই।

কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে এশার নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে অবশ্যই চার রাকাত ফরজ এবং দুই রাকাত সুন্নত নামাজটি আদায় করতেই হবে। আর শেষে যে বিতর নামাজ আছে সেটাও অবশ্যই আদায় করতে হবে।

তবে এই বিতর নামাজের সাথে কিন্তু এশার নামাজের কোন সম্পর্ক নেই। যেহেতু বিতর নামাজকে আলাদা করে ওয়াক্ত হিসেবে পড়া হয়না বা আলাদা করে আযান দেওয়া হয় না তাই এশার নামাজের সাথেই একে ধরা হয়।

আশা করি এশার নামাজ 17 রাকাত কি কি প্রশ্নটি আপনার মাথায় আর নেই আপনি একদম সহজ ভাষায় পুরস্কার করে সবকিছু বুঝে গেছেন। তারপরও যদি কোন কিছু জানতে ইচ্ছা হয় তাহলে সেটা অবশ্যই কমেন্টে আমাদেরকে জানাবেন।

ভালো লাগতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button