বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম – বায়োমিল ১ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও এর দাম কত

বায়োমিল ১ সম্পর্কে প্রায় সবকিছুই এখানে আলোচনা করা হয়েছে

আসসালামু আলাইকুম, যদিও মায়ের দুধের বিকল্প আর কিছু নেই । তারপরেও এই দুধের বিকল্প হিসেবে উদাহরণ ডটকম এর আজকের পোস্টে বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম , বায়োমিল ১ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সহ এর যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

বন্ধুরা মনে রাখবেন মায়ের দুধের মধ্যে এমন গুণাগুণ আছে যেটা পৃথিবীর অন্য কোন উপাদানের মধ্যে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু এরপরেও অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন সন্তান মায়ের দুধ ঠিকমতো পায় না।

আর মায়ের দুধ যদি ঠিকমতো না পায় তাহলে সেই বাচ্চাটির স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা সম্ভব হবে না। এই দুধের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানিরা অনেক ধরনের অল্টারনেটিভ উপাদান বের করেছে।

এরমধ্যে বায়োমিল ১ অন্যতম। যদিও এটি মায়ের দুধের সব কাজ করবে না কিন্তু এরপরেও কিছুটা সাহায্য করবে। তো এই কারণে আজকের পোস্টে আমরা বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম এবং বায়োমিল ১ এর দাম কত সহ যাবতীয় বিষয় আলোচনা করব।

বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম

বায়োমিল ১ খাবারটি সাধারণত মায়ের মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে বানানো হয়ে থাকে । আর এই বায়োমিল ১ যেহেতু শিশুদের জন্য পাউডার হিসেবে বানানো হয়ে থাকে এই কারণে এটি অনেক সাবধানতা অবলম্বন করে শিশুদেরকে খাওয়াতে হয়।

মনে রাখবেন শিশুদেরকে কিছু খাওয়াতে হলে অনেক সতর্কতার সাথে সেগুলো খাওয়াতে হবে। আর হ্যাঁ বায়োমিল ১ দুধ টি শুন্য থেকে ছয় মাস বয়সের বাচ্চাদের জন্য বানানো হয়ে থাকে।

যেহেতু বাচ্চাদের জন্য খাবারটি এই কারণে অবশ্যই বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে তারপর বাচ্চাদের কে খাওয়াতে হবে। তাহলে চলুন এখন এটি খাওয়ার নিয়ম বিস্তারিতভাবে বুঝে নেই।

মনে রাখবেন যেহেতু এটি শূন্য থেকে ৬ মাস বয়সের বাচ্চাদের জন্য এই কারণে অবশ্যই প্রতিটা মাসে কিভাবে বাচ্চাদেরকে দুধটি সেবন করাবেন সেটা পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে।

নিচে শূন্য মাস থেকে একদম ৬ মাস পর্যন্ত বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম ভালোভাবে বোঝানো হল :

✓ যে সকল বাচ্চাদের বয়স মাত্র ১ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রয়েছে তাদেরকে এই বায়োমিল 1 এর পাউডারটি হালকা গরম পানিতে তিন চামচ মিশাতে হবে। এবং এই তিন চামচ করে দিনে ৬ বার করে খাওয়াতে হবে।

See also  ভাতের মাড়ের ক্ষতিকর দিক - ভাতের মাড়ের উপকারিতা ও অপকারিতা

✓ যে সকল বাচ্চার বয়স এখন বর্তমানে তিন থেকে চার সপ্তাহ চলতেছে তাদেরকে এই বায়োমিল এক এর পাউডার দুধ টি ৪ চামচ মিশাতে হবে এবং দৈনিক পাঁচবার করে খাওয়াইয়া দিতে হবে।

✓ বাচ্চার বয়স যদি দুই মাস হয়ে যায় তাহলে তাকে বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম হচ্ছে প্রতিবার ৫ চামচ করে দিতে হবে এবং এভাবে প্রতিদিন পাঁচবার করে খাওয়াতে হবে। অর্থাৎ পাচ চামচ করে দিনে পাঁচবার খাওয়াতে হবে।

✓ দুই মাস হওয়ার পরে বাচ্চার বয়স যখন তিন মাস হয়ে যাবে তখন সেই বাচ্চাটিকে এই বায়োমিল ১ পাউডার দুধ টি দিনে ৫ বার খাওয়াতে হবে এবং যখনই খাওয়াবেন তখন তাকে একবারে ৬ চামচ করে দিতে হবে।

✓ যখন দেখা যাবে যে শিশুটির বয়স ৪ থেকে ৫ মাস এর মধ্যে রয়েছে তখন সেই শিশুটিকে যখনই বায়োমিল এক খাওয়াতে হবে তখন ৭ চামচ পরিমাণে দিতে হবে এবং এভাবে প্রতিদিন ৫ বার করে খাওয়ানো যাবে।

✓ আর এভাবে যখন বাচ্চার বয়স ৬ মাস হবে তখনও এইভাবে বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম চলতে থাকবে।

মনে রাখবেন বায়োমিল ১ তখনই বাচ্চাকে খাওয়ানো যাবে যখন বাচ্চার বয়স শূন্য থেকে ছয় মাস এর মধ্যে থাকবে।

আর হ্যাঁ এখানে কিন্তু শুধুমাত্র বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম দেখানো হয়েছে আপনাকে অবশ্যই পোস্টের পরের পয়েন্ট দেখে বায়োমিল ১ বানানোর নিয়ম ও বুঝতে হবে ।

এখানে বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম এর মধ্যে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন দিয়ে রাখা ভালো

✓ পাউডারটি ক্রয় করার সময় অবশ্যই প্যাকেটের গায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ ভালো ভাবে দেখে কিনতে হবে।

✓ পাউডার টি কখনোই ফ্রিজে রাখা যাবে না কিংবা পাউডার দিয়ে গুলানো পানী ও ফ্রিজে রাখা যাবে না।

✓ এছাড়াও অবশ্যই একটি পাউডার খোলার পরে এই পাউডারটি সম্পূর্ণ চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে হবে।

✓ যখন পানির সাথে পাউডারটি মেশানো হবে তখন অবশ্যই সেই পানিটি খুব দ্রুত শিশুকে খাওয়াতে হবে বেশিক্ষণ সংরক্ষণ করা যাবে না।

✓ যদি পাউডার গুলানো পানি বেশিক্ষণ থাকে তাহলে অবশ্যই সেটি ফেলে দিয়ে আবার নতুন করে পাউডার মিশিয়ে দুধ বানাতে হবে।

বায়োমিল ১ এর দাম কত

অনেকেই গুগলের মাধ্যমে বায়োমিল ১ এর দাম কত সেটা খুঁজতে থাকেন। আপনারা হয়তো সেখানে সঠিক কোন ইনফরমেশন পান না।

See also  ইস্ট এর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং এর কাজ ও ব্যবহার

তো এখন আমরা আপনাদেরকে বায়োমিল ১ এর দাম কত সে সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝিয়ে দেব। এখানে মনে রাখবেন বায়োমিল ১ দুধের পাউডারটি কিন্তু বিভিন্ন পরিমাণে পাওয়া যায়।

এই বিভিন্ন পরিমাণের দাম গুলো অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন রয়েছে। আপনি যে দোকান থেকে যে পরিমাণের বায়োমিল ১ পাউডার নিবেন অবশ্যই সেই MRP ভালোভাবে দেখে তারপর ক্রয় করবেন।

  • বায়োমিল ১ এর দাম কত এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে , বায়োমিল ১ পাউডারটি ৩৫০ গ্রাম এর পাওয়া যায়। আর এই ৩৫০ গ্রাম বায়োমিল এক পাউডারের দাম হচ্ছে মাত্র ৪৫০ টাকা।
  • এছাড়াও এই বায়োমিল এক পাউডারটি 180 গ্রাম এর প্যাকেট এও পাওয়া যায় আর এই ১৮০ গ্রাম প্যাকেটের দাম হচ্ছে মাত্র ২২৫ টাকা।

আপনারা যেকোনো বড় দোকানে গেলে এই বায়োমিল এক পাউডারটি পেয়ে যাবেন। এখানে বলে রাখা ভালো অবশ্যই বায়োমিল ১ এর দাম দেখে নিতে হবে। না হলে কিন্তু ঠকে যাবেন।

বায়োমিল ১ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

মনে রাখবেন কোন জিনিস যতই ভালো হোক না কেন অবশ্যই সেই জিনিসের কোন না কোন পার্শ্ববর্তী ক্রিয়া থাকে। ঠিক এইরকম বায়োমিল ১ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও কিছু লক্ষ্য করা যায়।

যেহেতু এটি শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে তাই এর মধ্যে খুব বেশি ক্ষতিকর পদার্থ না থাকলেও যদি অতিরিক্ত পরিমাণে শিশুদের কে খাওয়ানো হয় তাহলে অবশ্যই ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • বায়োমিল ১ এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুব বেশি পরিলক্ষিত না হলেও যদি পরিমাণের বেশি খাওয়ানো হয় অর্থাৎ যদি এই বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম ভালোভাবে না বুঝে শিশুদেরকে খাওয়ান তাহলে কিন্তু ক্ষতি হবে।
  • অনেক সময় দেখা যায় বায়োমিল ১ অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার কারণে শিশুদের পায়খানায় সমস্যা হয় অর্থাৎ পায়খানা অনেক পাতলা হয়ে যায়।
  • এছাড়াও শিশুদের পেটে হজমের সমস্যা দেখা দেওয়া সহ বেশি পরিমাণে বায়োমিল ১ খাওয়ালে পেটের মধ্যে ব্যথাও হতে পারে ।
  • তবে হ্যাঁ অবশ্যই যদি মায়ের দুধ ঠিক মত পায় তাহলে কোনোভাবেই এই ধরনের দুধের পাউডার খাওয়ানো যাবে না । আর যদি খাওয়াতে হয় তাহলে অবশ্যই ভালোভাবে এগুলো খাওয়ার নিয়ম জেনে স্বল্প পরিমানে খাওয়াতে হবে।

বায়োমিল ১ বানানোর নিয়ম

শিশুদের জন্য যেহেতু এই খাবারগুলো তাই অবশ্যই খুব ভালোভাবে সতর্কতার সাথে বায়োমিল ১ বানানোর নিয়ম জেনে নিয়ে এগুলো বানাতে হবে।

See also  ব্রয়লার মুরগির ডিমের ক্ষতিকর দিক - ব্রয়লার মুরগির ডিমের উপকারিতা

এই কারণে নিচে আমরা যেভাবে বায়োমিল ১ বানানোর নিয়ম শিখিয়ে দিলাম সেগুলো খুব সুন্দর ভাবে অনুসরণ করতে হবে।

✓ যে পাত্রটি তে গুলাবেন অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবেন এবং আপনার হাত ও খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবেন যাতে কোনভাবে কোথাও রোগ জীবাণু না থাকে।

✓ এরপর পরিমাণমতো পানি হালকা গরম করে নিবেন। এবং সেই গরম পানিকে কিছুক্ষণ রেখে স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ে আসবেন।

✓ পানি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসলে তারপর সেখানে বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম এর মধ্যে যে কয় চামচ বলা হয়েছে সেই কয় চামচ মেশাতে হবে।

✓ এরপর ওগুলো খাওয়াতে হবে।

✓ অবশ্যই যে পাত্রে দুধ বানাবেন সেই পত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে রাখতে হবে এবং বেশিক্ষণ খোলা রাখা যাবে না।

ওপরে যেভাবে বায়োমিল ১ বানানোর নিয়ম শেখানো হলো এভাবে বায়োমিল এক বানালে কোন সমস্যা হবে না ।

এভাবে বানানোর পর বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম জেনে নিয়ে সেগুলো সুন্দরভাবে শিশুদেরকে খাওয়াতে হবে।

শেষ কথা

যদি আপনার শিশু তার মায়ের দুধ সঠিক ভাবে গ্রহণ করতে পারে এবং তার পেট পরিপূর্ণ থাকে তাহলে কখনই এ ধরনের পাউডার সেবন করাবেন না।

এর কারণ হচ্ছে মায়ের দুধের বিকল্প কোন কিছুই নেই। যদি শুধুমাত্র এই ধরনের পাউডার খাওয়ান তাহলে শিশুর মানসিক এবং শারীরিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটবে।

এছাড়া শিশুর মধ্যে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন কোন কিছু খাবার প্রবেশ না করার ফলে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিবে।

যাই হোক অবশ্যই বায়োমিল ১ কেনার সময় সতর্কতার সাথে সেখানে মেয়াদ দেখবেন তারপর কিনবেন।

কেনার পর আজকের পোস্ট এ দেখানো বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম এবং যাবতীয় বিষয়বস্তু গুলো ভালোভাবে দেখে নিয়ে তারপর খাওয়াবেন।

এখানে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে বায়োমিল ১ বানানোর সময় অবশ্যই খুdব সতর্কতার সাথে বানাতে হবে এবং আজকের পোস্টে বলা বায়োমিল ১ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলোও ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

যাই হোক আজকের পোষ্টে আলোচনা করা বিষয়গুলোর মধ্যে যদি কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন কিংবা আমাদের ফেসবুক পেইজে নক দিয়ে যেকোন প্রশ্ন করতে পারেন।

এছাড়াও যদি আমাদের এই ওয়েবসাইটের পোস্টগুলো আপনার ভালো লাগে এবং প্রতিনিয়ত ওয়েবসাইটের নতুন পোস্ট গুলোর আপডেট পেতে চান তাহলে google নিউজে ফলো করতে পারেন।

ভালো লাগতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button